শিরোনাম:
ফরিদপুরে নিখোঁজের দু’ঘন্টা পর শিশু জায়ানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এক যুগ পর দেশে ফিরলো শান্তনা, মা’কে জড়িয়ে সন্তানের কান্না ঝিকরগাছায় নাতিজামাই এর হাতে নানা শ্বশুর খুন ঝিকরগাছায় মাদ্রাসার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অনুপস্থিতে জাল স্বাক্ষরে বেতন উত্তলন শার্শায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতের বৌদ্ধ তীর্থে গেছেন ৭০ জন তীর্থযাত্রী বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে পিস্তলসহ যুবক আটক “গোলাম মোস্তফা মডেল স্কুল এন্ড কলেজে” ভর্তি চলছে! বেনাপোল মাদকবিরোধী ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৫ অনুষ্ঠিত শার্শা উপজেলা ব্যাপি বন্যার্ঢ আয়োজনে যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন 

বোয়ালমারীতে ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে দুধের ব্যাবসা করে স্বাবলম্বী প্রতিবন্ধী আবুল হোসেন 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

এমএম জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ভাড়ালিয়ারচর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক মোঃ আবুল হোসেন (৩৬)। ৭-৮ বছর ভিক্ষা করে নিজের ও মায়ের জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কিন্তু এখন আর ভিক্ষা নয়। ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিনে দুধ ও রাতে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

মা হাসিনা বেগমকে (৫৬) নিয়ে আবুল হোসেনের সংসার। বছর তিনেক আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাবা আব্দুস ছত্তার বিশ্বাস। তারা দুই ভাই। বড় ভাই হাসান বিশ্বাস একই বাড়িতে থাকেন। তবে বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। মা-ভাইয়ের খোঁজ নেন না।

ভিটের মাত্র তিন শতক জায়গা ছাড়া কিছুই নেই। প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে তিন মাস পর পর পান মাত্র ছাব্বিশ শত টাকা। এ দিয়ে সংসার চলে না। তাই মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করে চলতে হতো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মের এক বছর পর হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাত-পা’সহ পুরো শরীর শুকিয়ে যায় আবুল হোসেনের। তারপর থেকে পঙ্গুত্ববরণ করেন তিনি। কোনো উপায় না পেয়ে ভ্যানভাড়া করে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বাধ্য হন।

দীর্ঘ ৮ বছর ভিক্ষা করেন, কিন্তু ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ভিক্ষা করে পাননি মানসিক শান্তি। এরপর ৮-৯ মাস আগে বোয়ালমারীর সুমন রাফির সহোযোগিতায় ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দুধের ব্যবসা শুরু করেন।

সুমন রাফি বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দশ হাজার টাকা পুঁজি দেন। সেই টাকা দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করে বোয়ালমারী বাজারে মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন। এ কাজে সহযোগিতা করেন ভ্যানচালক রাজন বিশ্বাস। প্রতিদিন ২-৩ মণ দুধ বিক্রির পাশাপাশি এখন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ির সামনে চা বিক্রি করেন আবুল হোসেন। সবমিলিয়ে এখন গড়ে তার প্রতিদিন চারশত, পাঁচশত  টাকা রোজগার হয়।

সরেজমিনে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছোট্ট একটি বাড়িতে ছোট দুটি কক্ষ। ভ্যান নিয়ে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবুল হোসেন। বাড়ির সামনে ছোট্ট উঠানে দাঁড়ানো ভ্যানটি। অন্যের ওপর ভর করেই চলতে হয় তাকে। সেক্ষেত্রে মা ও ভ্যানচালকের সাহায্য নিয়ে যান জীবিকার সন্ধানে।

স্থানীয় দাউদ হোসেন বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে আবুল হোসেন সকালে দুধ বিক্রি করে। দুপুরের পর বাড়ির সামনে চা বিক্রি করে মাকে নিয়ে সংসার চালায়, সে ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে বেশ ভালোই আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেদা পারভীন বলেন, আবুল হোসেন আগে ভিক্ষা করতো। এখন দুধ বিক্রি করে। পথে-ঘাটে দেখা হলে আমরাও তার কাছ থেকে দুধ কিনি।

“আবুল হোসেনকে বহনকারী ভ্যানচালক রাজন বিশ্বাস  বলেন, আবুল ভাইয়ের শরীরের যে অবস্থা, কারো সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। আগে আমি বাড়ি থেকে ভ্যানে তুলে নিয়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতাম ভিক্ষা করতে। এতে নিজের কাছেও খারাপ লাগতো। এখন ব্যাবসা করে সংসার চলে।

আবুল হোসেন ঢাকার ডাক প্রতিনিধি কে বলেন, ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এটা তার মনকে সায় দিচ্ছিল না। নিজের শারীরিক অবস্থা যাই হোক, ভিক্ষা করতে লজ্জা করতো।

বোয়ালমারীর সুমন রাফি ভাইয়ের আর্থিক সহযোগিতায় ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুধের ব্যবসা করি এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করি। মানসিকভাবে শান্তিতে আছি। তবে আমার এখন একটি ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার হলে চলাফেরায় সুবিধা হতো।

প্রতিবন্ধী,আবুল হোসেনের মা হাসিনা বেগম প্রতিনিধি কে বলেন, জন্মের পর আবুল হোসেন ভালো ছিল। ছোটবেলায় জ্বর হওয়ার পর থেকে তার শরীরের অবস্থা এমন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ভিক্ষা করছে। গরিবের বন্ধু রক্ত যোদ্ধা সুমন রাফির সার্বিক সহযোগিতায় ভিক্ষা ছেড়ে দিয়েছে। এখন দুধের ব্যবসা ও চা বিক্রি করে। আমরা বেশ ভালো আছি।

কথা হয় রক্তত্ব যোদ্ধা সুমন রাফির সঙ্গে। তিনি ঢাকার ডাক প্রতিনিধি কে বলেন, বাজারে চলতে গিয়ে প্রায়ই আবুল হোসেনের সঙ্গে আমার দেখা হতো। সে অন্যের সহযোগিতার জন্য বসে থাকতো। একদিন আমি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করি এবং বিভিন্ন ভাবে তার পরিবারের খোঁজ খবর নেই। জানতে পারি শুধুমাত্র মাকে নিয়ে সংসার তার। আমি তখন তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেই। গরুর দুধের ব্যবসা করার জন্য পরামর্শ ও পুঁজি দেই। পরে তাকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে একটি চায়ের দোকানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

 

ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন ঢাকার ডাক পত্রিকা কে বলেন, তার নামে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি বেসরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পেলে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী ঢাকার ডাক পত্রিকা কে বলেন, ভিক্ষাবৃত্তির পেশা ছেড়ে কর্মসংস্থানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। আবুল হোসেন আমাদের সমাজের জন্য একজন অনুকরণীয় মানুষ। তার জন্য সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।


এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ